সার্ভে কাজ করা হারাম নাকি হালাল

সার্ভে কাজ করা হারাম নাকি হালাল

আসসালামুয়ালাইকুম,আশা করি আল্লাহ্‌র রহমতে আপনারা সবায় ভালো আছেন,আমি ও আল্লাহ্‌র রহমতে এবং আপনাদের দোয়ায় ভাল আছি।
অনেকে অনলাইন সার্ভে করে থাকে বা করতে চায়,কিন্তু তাদের মনে চিন্তা আসে সার্ভে কাজ করা হারাম নাকি হালাল ? আজ আমি কথা বলবো অনলাইন জব সার্ভে সম্পর্কে সার্ভে কাজ করা হারাম নাকি হালাল। সার্ভে কাজ করা হারাম নাকি হালাল জেনে নিন ।
যারা সার্ভে সম্পর্কে জানেনা তাদের জন্যে বলি সার্ভে টা কি।কোন কোম্পানি তাদের কোন পন্য সম্পর্কে মানুষের মতামত নেওয়ার জন্যে এলাকায় এলাকায় ঘুরে ঘুরে মানুষ এর কাছে বিভিন্ন প্রশ করে থাকে যে মানুষ আসলে কি চাচ্ছে। এটা এক ধরনের সার্ভে, সার্ভে শুধু যে একটা পন্য এর উপর হবে তাই কিন্তু না, এটা হতে পারে কোন স্থান সম্পর্কে এছাড়া ও বিভিন্ন বিষয়ে সার্ভে হয়ে থাকে। সহজ ভাবে বলতে গেলে এটাকে বলা হয় জরিপ। আমরা দেখে থাকি বাংলাদেশে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের পন্য সম্পর্কে সার্ভে করে থাকে,আমাদের কাছে তারা প্রশ্ন করে আর আমরা আমাদের মতামত জানায়। এখন কথা হচ্ছে তাহলে কি মতামত জানানো বা জরিপ করা কি হারাম? অবশ্যই না।

উন্নত কিছু দেশে সার্ভে পরিচালিত হয় অনলাইন এর মাধ্যমে। ইউ এস এ, অস্ট্রোলিয়া, সিঙ্গাপুর এসব সহ আরো কান্ট্রি তে মানুষ সার্ভে করে থাকে। কিন্তু তাদের সার্ভে করার ধরন টা একটু আলাদা। তাদের সার্ভে তে অংশগ্রহন করতে করতে হলে ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে ইউজার এর একটা একাউন্ট খুলতে হয়,সেখান থেকে মুলত সার্ভে এর বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয় তারা। আমাদের দেশের সার্ভে এবং তাদের দেশের সার্ভে এর মধ্যে পার্থক্য হলো আমাদের দেশে সার্ভে এর উত্তর দেওয়ার জন্যে আমাদের কোন টাকা দেওয়া হয়না,কিন্তু তাদের দেশে সার্ভে এর উত্তর দিলে কিছু এমাউন্ট পে করে সেই সার্ভে সাইট। তো ইউএসএ এর মানুষ তাদের দেশে সার্ভে করে ইনকাম করতেই পারে সেটা সমস্যা নেই, কিন্তু এখন দেখা যায় বাংলাদেশ থেকে কিছু মানুষ ইউএসএ এর সার্ভে অংশগ্রহন করছে। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে সার্ভে কাজ করা হারাম নাকি হালাল ? সেটা অবশ্যই হারাম।

কেন হারাম?

ধরুন আমি একজন বাংলাদেশি , কিন্তু আমি একটা ইউএসএ এর একতা সার্ভে সাইট এ ঢুকে সার্ভে করে টাকা ইনকাম করছি। সেই সার্ভে টা একটা কোম্পানি করছে তাদের পন্য সম্পর্কে ধারনা নেওয়ার জন্যে ,আমাদের মতামত এর উপর নির্ভর করে তারা তাদের পন্য কে বিভিন্ন ভাবে কাস্টমাইজ করবে, তাদের সার্ভে করার লক্ষ হচ্ছে গ্রাহক কি চায় সেই অনুযায়ি তাদের পন্য কে উন্নতা করবে। এখন কথা হচ্ছে আমরা বাংলাদেশ থেকে টাকা ইনকাম করার জন্যে তাদের সার্ভে সাইট এ ঢুকে ফেক আইডি খুলে তাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি মন মতো। আমি কিন্তু তাদের কোন পন্য ব্যাবহার করিনা বা সেটা সম্পর্কে জানিনা তারপরে ও মন মতো তাদের সার্ভে এর উত্তর দিয়ে যাচ্ছি, এটা অবশ্যই হারাম।
অনেকে আমার কাছে যুক্তি দেখিয়েছে যে আমি তো তাদের পন্য সম্পর্কে গুগল ও ইউটিউব এ দেখেছি সেখান থেকে উত্তর দিবো তাহলে হারাম হয় কিভাবে?

কথা টা থিক আছে কিন্তু যুক্তিসম্মত নয়। কারন সেই দেশের কোম্পানিগুলো তাদের সাইট এ ওই দেশের লোকজন ছাড়া অন্য কোন দেশের লোকজন এলাও করেনা।আমরা বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ও বিভিন্ন দেশের লোকজন কি করছি? তাদের দেশের আইপি কিনে তাদের সাইট এ প্রবেশ করছি এবং সার্ভে কাজ করছি যাতে এই সাইট বুঝতে না পারে যে এই লোক জন তাদের সাইট এ ফেক। এভাবেই আমরা এই হারাম কাজ করে ইনকাম করে যাচ্ছি, যা ইসলাম সমর্থন করেনা। ইসলাম সত্যের ধর্ম এখানে মিথ্যা বলা মহা পাপ। এই বিষয়ে আরো জানতে আপনি ইউটিউব  এ সার্চ করে দেখতে পারেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
হে মানবমণ্ডলী! পৃথিবীতে যা আছে তা থেকে হালাল ও পবিত্র বস্তু-সামগ্রী গ্রহণ কর এবং শয়তানের অনুসরণ কর না। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৬৮)
আসুন আমরা সবায় সৎ পথে চলি, আল্লাহ এর আদেশ-নিষেধ মেনে চলি। ব্লগ টি পড়ার জন্যে ধন্যবাদ যদি ব্লগ টি হেল্পফুল হয় তাহলে শেয়ার বাটনে ক্লিক করে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আসসালামুয়ালাইকুম।

 

কম দামের টেকনো মোবাইলের রিভিউ জানতে ভিজিট করুন টেকনো মোবাইল

1 thought on “সার্ভে কাজ করা হারাম নাকি হালাল”

  1. Pingback: এসপিসি কি এবং এর কাজ কি জেনে নিন । -

Leave a Comment

Your email address will not be published.